মকর সংক্রান্তির আগে রাঢ়ের পিঠের গন্ধে মিশে গেল টুসুর মেঠো গানের সুর - The News Lion

মকর সংক্রান্তির আগে রাঢ়ের পিঠের গন্ধে মিশে গেল টুসুর মেঠো গানের সুর




দি নিউজ লায়ন ;  রাত পোহালেই মকর সংক্রান্তি। আর রাঢ়ের মকর সংক্রান্তির সাথে যুগ যুগ ধরে প্রায় সমার্থক হয়ে আছে টুসু উৎসব। রাঢ় বাংলার গ্রাম গঞ্জে কান পাতলে এখনো যে টুসু গানের কোরাস ভেসে আসে তা- ই জানান দেয় রাঢ়ের মকর পরব এসে গেছে। 


সময়ের সারণি বেয়ে বিজ্ঞান এগিয়ে গেছে অনেক দূর। পাতাল থেকে মহাকাশ আজ সবই হাতের নাগালে মানুষের। প্রতিযোগিতার ইঁদূর দৌড়ের মাঝেই  প্রাচীন কিছু লোকাচার আজো বেঁচে আছে রাঢ়ের গ্রাম গঞ্জে। তেমনই এক লোকাচার হল টুসু। যুগ যুগ ধরে এই প্রাচীন লোকাচারকে সযত্নে বুকে লালন করে চলেছে রাঢ়ের গ্রাম গঞ্জে বসবাস করা সহজ সরল  মানুষগুলি। টুসু কোনো দেবী কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বিস্তর।


 কিন্তু রাঢ়ের মানুষ মনে করে টুসু তাদের ঘরের মেয়ে। তাই তার আরাধনাতে আড়ম্বরতার তূলনায় ঢের বেশি জড়িয়ে থাকে আন্তরিকতা। মাটির তৈরীর বিশেষ আকৃতির খোলায় সহজলভ্য গাঁদা ফুল সাজিয়ে টুসু খোলা সাজানো হয়। পৌষ মাস জুড়ে গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে সুর্য ঢলে পড়লেই পরিবারের মহিলারা জড়ো হন গ্রামের উঠোনে। টুসু খোলার প্রদীপ জ্বালিয়ে তাকে ঘিরে গোল হয়ে বসে শুরু হয় টুসু গানের কোরাস। 


টুসু গানের মেঠো সুরে কালে কালে মিশে যায় সমকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়। ঘরের মেয়ে টুসুর প্রসাদ হিসাবে নিবেদন করা হয় মুড়ি, বাতাসা, চিঁড়ে, খই, টাটকা নলেন গুড়। পৌষের সন্ধ্যায়  পিঠে পার্বনের জন্য ঢেঁকিতে পাহার দেওয়ার শব্দ, বাতাসে নতুন চালের পিঠের গন্ধ আর টুসুর মেঠো সুর মিলেমিশে তৈরী হয় এক ভিন্ন আবহ। 


মকর সংক্রান্তির আগের রাতে হয় এই টুসুর জাগরণ। আজ সেই জাগরণ। আজ রাতভর টুসুর জাগরণের পর আগামীকাল মকর সংক্রান্তির সকালে স্থানীয় পুকুর বা নদীর  জলে চোখের জলে বিদায় জানানো হবে টুসুকে। মেঠো সুরের সেই গানে আপাতত তাই মজেছে গোটা রাঢ় বঙ্গ।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.